Skip to content

বাবার সম্পত্তিতে মেয়ের অংশ কতটুকু?

এই নির্দেশিকায়
  1. তিনটি মূল অবস্থা
  2. আগে কী কী বাদ যায়
  3. ছেলে থাকলে মেয়ের অংশ: একটি উদাহরণ
  4. ছেলে না থাকলে কী হয়
  5. মায়ের সম্পত্তিতে মেয়ের অংশ
  6. কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা
  7. সংক্ষেপে

সংক্ষিপ্ত উত্তর

সূরা আন-নিসার ১১ নম্বর আয়াত অনুযায়ী, মৃত বাবার ছেলে থাকলে প্রতিটি মেয়ে পায় একজন ছেলের অর্ধেক, অর্থাৎ ছেলে ও মেয়ের অনুপাত ২:১। ছেলে না থাকলে একমাত্র মেয়ে পায় মোট সম্পত্তির অর্ধেক (১/২), আর দুই বা ততোধিক মেয়ে মিলে পায় দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩), যা তাদের মধ্যে সমান ভাগ হয়। এই ভাগ হয় মৃত ব্যক্তির ঋণ শোধ ও অসিয়ত পূরণের পর।

তিনটি মূল অবস্থা

মেয়ের অংশ নির্ভর করে মূলত একটি প্রশ্নের ওপর: মৃত ব্যক্তির কোনো ছেলে আছে কি না। সূরা আন-নিসার ১১ নম্বর আয়াতে সন্তানদের অংশ নিয়ে যা বলা হয়েছে, তা সহজ ভাষায় এমন:

অবস্থামেয়ের অংশ
ছেলে ও মেয়ে দুজনই আছেছেলেরা ও মেয়েরা মিলে বাকি সম্পত্তি পায়, প্রতিটি ছেলে পায় প্রতিটি মেয়ের দ্বিগুণ
ছেলে নেই, মেয়ে মাত্র একজনমোট সম্পত্তির অর্ধেক (১/২)
ছেলে নেই, মেয়ে দুই বা ততোধিকসবাই মিলে দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩), সমান ভাগে

Quran.com-এর অনুবাদে "বা ততোধিক" কথাটি বন্ধনীর মধ্যে দেওয়া, অর্থাৎ অনুবাদক এখানে ব্যাখ্যা যোগ করেছেন। দুই মেয়ে হোক বা দুইয়ের বেশি, তারা মিলে দুই-তৃতীয়াংশ পায়, এটিই প্রতিষ্ঠিত ও প্রচলিত ব্যাখ্যা।

আগে কী কী বাদ যায়

ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগ শুরু হয় পুরো সম্পত্তি থেকে নয়। ১১ ও ১২ নম্বর আয়াত দুটোতেই বলা হয়েছে, অংশগুলো দেওয়া হবে অসিয়ত পূরণ ও ঋণ পরিশোধের পর। তাই হিসাবের আগে:

  1. মৃত ব্যক্তির ঋণ থাকলে তা শোধ করুন।
  2. বৈধ অসিয়ত থাকলে তা পূরণ করুন।
  3. যা বাকি থাকে, সেটিই ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগ হবে।

ছেলে থাকলে মেয়ের অংশ: একটি উদাহরণ

ধরা যাক, একজন বাবা মারা গেলেন। রেখে গেলেন স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে। তাঁর বাবা-মা আগেই মারা গেছেন। ঋণ ও অসিয়ত মেটানোর পর সম্পত্তির মূল্য ২৪ লাখ টাকা।

  • স্ত্রী: ১২ নম্বর আয়াত অনুযায়ী স্বামীর সন্তান থাকলে স্ত্রী পান এক-অষ্টমাংশ (১/৮)। ২৪ লাখের ১/৮ হলো ৩ লাখ টাকা।
  • বাকি ২১ লাখ টাকা ছেলে ও মেয়ের মধ্যে ২:১ অনুপাতে ভাগ হবে। মোট ৩ ভাগ, প্রতি ভাগ ৭ লাখ।
  • ছেলে: ২ ভাগ, ১৪ লাখ টাকা।
  • মেয়ে: ১ ভাগ, ৭ লাখ টাকা।

যোগ করলে ৩ + ১৪ + ৭ = ২৪ লাখ, পুরো সম্পত্তি ভাগ হয়ে গেল।

ছেলেমেয়ে বেশি হলেও নিয়ম একই। ধরুন, স্ত্রী বা বাবা-মা কেউ নেই, আছে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। প্রতিটি ছেলে ২ ভাগ আর প্রতিটি মেয়ে ১ ভাগ ধরলে মোট ভাগ হয় ২ + ২ + ১ + ১ + ১ = ৭। প্রতিটি মেয়ে পাবে সম্পত্তির ১/৭, আর প্রতিটি ছেলে ২/৭।

ছেলে না থাকলে কী হয়

ছেলে না থাকলে মেয়ের অংশ একটি নির্দিষ্ট ভগ্নাংশ। একজন মেয়ে হলে অর্ধেক, দুই বা বেশি হলে মিলে দুই-তৃতীয়াংশ। কিন্তু এর পরে সম্পত্তির যে অংশ বাকি থাকে, তা কে পাবেন, সেটি এক কথায় বলা যায় না। মৃত ব্যক্তির বাবা, মা, স্ত্রী বা স্বামী, ভাই-বোন বা অন্য আত্মীয় কারা জীবিত আছেন, তার ওপর হিসাব বদলে যায়।

কয়েকটি অংশ কুরআনেই নির্দিষ্ট করে বলা আছে:

  • বাবা-মা: ১১ নম্বর আয়াত অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে বাবা ও মা প্রত্যেকে এক-ষষ্ঠাংশ (১/৬) পান।
  • স্ত্রী: স্বামীর সন্তান থাকলে এক-অষ্টমাংশ (১/৮), সন্তান না থাকলে এক-চতুর্থাংশ (১/৪)। (আয়াত ১২)
  • স্বামী: স্ত্রীর সন্তান থাকলে এক-চতুর্থাংশ (১/৪), সন্তান না থাকলে অর্ধেক (১/২)। (আয়াত ১২)

এখানে মেয়েও "সন্তান" হিসেবে গণ্য, তাই শুধু মেয়ে থাকলেও স্ত্রী বা স্বামীর অংশ কমে যায়।

মেয়েদের নির্দিষ্ট অংশ ও এই অংশগুলো দেওয়ার পর কিছু বাকি থাকলে তা কারা পাবেন, সে বিষয়ে ফারায়েজ শাস্ত্রে বিস্তারিত নিয়ম আছে। এই অংশটি পরিবারভেদে জটিল হতে পারে। তাই এমন ক্ষেত্রে একজন যোগ্য আলেম বা মুফতির কাছ থেকে হিসাব নিশ্চিত করে নিন।

মায়ের সম্পত্তিতে মেয়ের অংশ

১১ নম্বর আয়াতের শুরুতেই বলা হয়েছে "তোমাদের সন্তানদের" ব্যাপারে, অর্থাৎ নিয়মটি বাবা বা মা, যিনিই মারা যান, দুই ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। মা মারা গেলে ছেলে থাকলে মেয়ে পায় ছেলের অর্ধেক, ছেলে না থাকলে একা মেয়ে অর্ধেক এবং একাধিক মেয়ে মিলে দুই-তৃতীয়াংশ। পার্থক্য শুধু স্বামীর অংশে। মায়ের সন্তান থাকলে তাঁর স্বামী পান এক-চতুর্থাংশ (১/৪), যা স্ত্রীর অংশের চেয়ে বেশি।

কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা

  • "বিয়ের পর মেয়ে আর অংশ পায় না।" আয়াতে বিবাহিত ও অবিবাহিত মেয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। মেয়ের অংশ তার বৈবাহিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে না।
  • "মেয়ে যা পায় তা ভাইদের ইচ্ছা।" মেয়ের অংশ কুরআনে নির্দিষ্ট, এটি কারও দয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়।
  • "সব সম্পত্তি সমান ভাগ হয়।" ছেলে থাকলে ছেলে ও মেয়ের ভাগ সমান নয়, অনুপাত ২:১।

ফারায়েজ ক্যালকুলেটর - ওয়ারিশ

Calculates Islamic inheritance shares for Bangladeshi families and explains each heir's share.

Google Play থেকে নিন

ফারায়েজ ক্যালকুলেটরে ওয়ারিশদের তালিকা দিলে অ্যাপটি প্রত্যেকের অংশ হিসাব করে এবং কোন অংশ কেন, তা কুরআনের আয়াত ও হানাফি সূত্রের উল্লেখসহ ব্যাখ্যা করে। জমির ক্ষেত্রে অংশগুলো কাঠা, বিঘা বা শতাংশে রূপান্তর করে দেখায়। যে অবস্থাগুলো অনিশ্চিত বা মতভেদপূর্ণ, সেখানে অ্যাপটি অনুমান না করে আলেমের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। হিসাবের একটি খসড়া হাতে নিয়ে আলেমের কাছে গেলে আলোচনাও সহজ হয়।

সংক্ষেপে

  • ছেলে থাকলে: প্রতিটি মেয়ে পায় প্রতিটি ছেলের অর্ধেক।
  • ছেলে না থাকলে, একজন মেয়ে: অর্ধেক।
  • ছেলে না থাকলে, দুই বা বেশি মেয়ে: মিলে দুই-তৃতীয়াংশ, সমান ভাগে।
  • সব হিসাব ঋণ ও অসিয়তের পর।
  • বাকি অংশ কে পাবেন, বা পরিবারে জটিল কোনো অবস্থা থাকলে, আলেম বা মুফতির পরামর্শ নিন।

সূত্র

  1. সূরা আন-নিসা, আয়াত ১১ - Quran.com
  2. সূরা আন-নিসা, আয়াত ১২ - Quran.com

Search the site